বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেয়া সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর বিভিন্ন সময় দফায় দফায় আওয়ামী লীগ এবং দলটির সহযোগী অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের হামলার ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার অজুহাতে শিক্ষার্থীদের ওপর পাথরের মতো গুলিও ছুড়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পুলিশের সদস্যরা। রাজনৈতিক দল ও পুলিশের নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়েছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
তবে নানা নির্যাতন ও হামলার পরও দমিয়ে রাখা যায়নি শিক্ষার্থীদের। শেষ পর্যন্ত নিজেদের দাবি-দাওয়া আদায় করে নিয়েছেন তারা। এমনকি সাধারণ শিক্ষার্থী ও মানুষের রোষানলে পড়ে গত ৫ আগস্ট ক্ষমতা থেকে পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা।
এদিকে শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে জয় পেলেও তাদের ওপর যে নির্যাতন ও হামলা করা হয়েছে, তা দেশবাসীর জানা। শিক্ষার্থীদের ওপর এসব হামলার বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের মতোই ওই সময় কথা বলেছেন দেশের শোবিজ ও সংগীত তারকারা। এছাড়াও কথা বলেছেন বিভিন্ন মডেল, কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সাররা। কেউ কেউ আবার রাজপথেও নেমেছেন।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেয়ায় এবং শিক্ষার্থীদের পক্ষে কাজ করায় ‘গলা কেটে’ মেরে ফেলার হুমকি দেয়া হয়েছিল তরুণ প্রজন্মের জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর আরএস ফাহিম চৌধুরীকে। বিষয়টি সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন তিনি নিজেই।
শনিবার (১৭ আগস্ট) বিকেল সোয়া পাঁচটার দিকে ফেসবুক ভেরিফায়েড পেজে এক পোস্টে এ কনটেন্ট ক্রিয়েটর লিখেছেন, ‘আমি আরএস ফাহিম। দেশের প্রয়োজনে নিজের অবস্থান থেকে সবার আগে এগিয়ে আসার চেষ্টা করেছি এবং ভবিষ্যতেও করব। আমার মাটির ক্ষেত্রে এক চুলও ছাড় নয়। সে যেই হোক না কেন, আমি মাথা নত করিনি, করবও না; ইনশাআল্লাহ।’
‘মনে রাখতে হবে, আমরা একটি সমাজে বাস করি। এখানে যেমন আওয়ামী লীগ আছে, তেমনি বিএনপি, জামায়াত এবং Gen-Z শিক্ষার্থীরাও আছেন। যুদ্ধের সময় একই পরিবারের মানুষ মুক্তিযুদ্ধ করেছে, আবার রাজাকারও ছিল। এবারের আন্দোলনে আমার খুব কাছের বড় ভাই আওয়ামী লীগ সমর্থন করতো, কিন্তু তার ছোট ভাই, আমার সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আওয়ামী স্বৈরাচারের বুলেটের সামনে বুক পেতে দিয়েছে। এসব মেনে নিতে হয়, হবেই।’
এ কনটেন্ট ক্রিয়েটর লিখেছেন, ‘এ সমাজে আমরা কাউকেই ইগনোর করতে পারব না। তবে দেশকে স্বৈরাচারমুক্ত করতে গিয়ে আমি তাদের ইগনোর করতে স্বক্ষম হয়েছিলাম। আমার হতেই হয়েছে। অসংখ্য আওয়ামী বন্ধু আমাকে অসংখ্যভাবে হুমকি দিয়েছে। উপর মহল বলেছে, কল্লা ফালাইয়া দিমু। আমি বলেছিলাম, এতো ভাইয়ের গেছে। আমার কল্লাটাও যাক।’
সবশেষ তিনি লিখেছেন, ‘মাটির সঙ্গে বেঈমানি… সম্ভব না। আমরা যারা একসঙ্গে ধানমন্ডি-২৭ থেকে গোটা নীলক্ষেত দাপিয়ে বেড়িয়েছি; যারা যারা আমার সঙ্গে ছিলেন, আপনাদের ধন্যবাদ জানানো হয়নি। অসংখ্য ধন্যবাদ আমার সহযোদ্ধাদের, কৃতজ্ঞতা।’