Search
Close this search box.

খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজে নানা সংকটে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত

শেয়ার করুন

Facebook
X
Skype
WhatsApp
OK
Digg
LinkedIn
Pinterest
Email
Print
Khagrachari Picture(01) 17-08-2016
নানা সংকটে পড়ে শিক্ষার্খীদের লেখাপড়া বিঘ্নিত ঘটছে ঐতিহ্যবাহি খাগড়াছড়ি সরকারী কলেজের।

এইচ এম প্রফুল্ল, খাগড়াছড়ি:
খাগড়াছড়ি জেলার সর্বোচ্চ বিদ্যাপিট খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজে অধ্যক্ষ নিবাস,ছাত্রাবাস ও একাডেমিক ভবনসহ নানা সংকটে হাবুডুবু খাচ্ছে। বিঘ্নিত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম। কলেজে একটি জরাজীর্ণ শিক্ষক নিবাস থাকলেও অধ্যক্ষ নিবাস ও ছাত্রাবাস নেই। দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক ও কর্মচারীদের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো শূন্য। কলেজে বাংলা ক্লাস চলে অতিথি শিক্ষক দিয়ে। কলেজে অন্তত ১৪টি বিভাগে অনার্স কোর্স চালু থাকার কথা থাকলেও চালু থাকা মাত্র দুটি বিভাগেও শিক্ষক সংকটে শিক্ষা কার্যক্রম বিঘ্নিত হচ্ছে।

খাগড়াছড়ি কলেজটি ১৯৭৪ সালের ১০ মার্চ প্রতিষ্ঠিত ও ১৯৮০ সালের ১ মার্চ জাতীয়করণ করা হয়। বর্তমানে এ কলেজে শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় সাড়ে চার হাজার। এ কলেজের উপর নির্ভর জেলার ৯টি উপজেলা ছাড়াও পাশ^বর্তি রাঙামাটির জেলার তিন উপজেলার শিক্ষার্থীরা। কলেজটি জাতীয়করণের সময় যে পদ ছিল পরবর্তিতে শিক্ষার্থী ও কোর্সের সংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও নতুন করে শিক্ষকের পদ সৃষ্টি করা হয়নি।

খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজে অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষসহ মোট ৪৬টি শিক্ষকের পদের বিপরীতে কর্মরত ৩৪ জন।বাংলা বিভাগের চারজন শিক্ষকের বিপরীতে একজন প্রভাষক থাকলেও তিনি চার মাসের ট্রেনিং-এ থাকায় বর্তমানে একজন অতিথি শিক্ষক দিয়ে পাঠদান চলছে। হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের চারজন শিক্ষকের বিপরীতে একজন সহকারী অধ্যাপক, সমাজ বিজ্ঞান বিভাগে চারজন শিক্ষকের বিপরীতে দুজন শিক্ষক,পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগে দুজন শিক্ষকের বিপরীতে একজন প্রভাষক এবং জীববিজ্ঞান বিভাগে দুজন শিক্ষকের বিপরীতে একজন প্রভাষক কর্মরত রয়েছেন। ফলে শিক্ষকের অভাবে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে।

Khagrachari Picture(07) 17-08-2016
ঐতিহ্যবাহি খাগড়াছড়ি সরকারী কলেজ ক্যাম্পাস।

প্রায় সাড়ে চার হাজার শিক্ষার্থীর পদচারণায় মুখর খাগড়াছড়ি সরকারী কলেজে উচ্চমাধ্যমিক শাখায় মানবিক, ব্যবসায় শিক্ষা এবং বিজ্ঞান বিভাগের পাশাপাশি বিএ, বিবিএস, বিএসএস ডিগ্রী কোর্স পাঠদান হয়ে থাকে। কিন্তু শিক্ষক ও একাডেমিক ভবনের সংকট থাকায় শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। শ্রেনী কক্ষের অভাবে শিক্ষার্থীদের অনেককেই ক্লাস চলাকালীন দাঁড়িয়ে থাকতে হয়।

খাগড়াছড়ি সরকারী কলেজে আবাসন সংকটে অধ্যক্ষ,শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা দূর্ভোগ পোহাচ্ছে। জম্ম থেকে অধ্যক্ষের বাস ভবন নেই। টিন সেটের একটি শিক্ষক নিবাস থাকলেও তা জড়াজীর্ণ হওয়ায় একটু বৃষ্টি হলে ভিতরে পানি পড়ে মূল্যবান জিনিজপত্র নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ছাত্রাবাস না থাকার কারণে দুর-দরান্ত থেকে পড়তে আসা শিক্ষার্থীরা চরম দূর্ভোগের শিকার হচ্ছে।

খাগড়াছড়ি সকারী কলেজেন একাদশ শ্রেণীর শিক্ষার্থী মনশ্রী ত্রিপুরা ত্রিপুরা বলেন, বাংলা বিষয়ে কোন শিক্ষক নেই। একজন অতিথি শিক্ষক মাঝেমাঝে এসে ক্লাস নেন। উনি না আসলে অনেক সময় ক্লাস হয়না।

দ্বাদশ বিজ্ঞান বিভাগের আরিফা আক্তার বলেন, এইচএসসি লেভেলে বিজ্ঞান বিভাগের কার্যক্রম থাকলেও অনার্স ও ডিগ্রি লেভেলে কোন কার্যক্রম নেই। ফলে এখনকার অধিকাংশ শিক্ষার্থী উচ্চ শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

Khagrachari Picture(05) 17-08-2016
কলেজে অধ্যায়নরত শিক্ষার্থীরা।

দ্বাদশ বিজ্ঞান বিভাগের দেবশ্রী তালুকার জানান,কম্পিউটার ল্যাবে কম্পিউটার সংকট রয়েছে। কলেজের দুটি বাসের মধ্যে একটি দীর্ঘ দিন ধরে অকেজো। ফলে শিক্ষার্থীরা যাতায়াতে দূর্ভোগের শিকার হচ্ছে।কলেজে নেই কোন ক্যান্টিন ও হল রুম।

দিদারুল আলম জানান, কলেজে অডিটরিয়াম ও ক্যান্টিনের ব্যবস্থা নেই। নেই কোন বিনোদনের ব্যবস্থাও।

জয়শীষ চাকমা জানান, আইসিটি ল্যাব থাকলেও পর্যাপ্ত কম্পিউটার না থাকায় ব্যবহারিক ক্লাস বিঘ্নিত হচ্ছে। দ্বাদশ ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের সামিরা ইসলাম জানান, অনার্স ও মাস্টার্স লেভেলে ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের কোন বিষয় চালু নেই। কলেজে একাধিক বিষয়ে স্নাতক (সম্মান) কোর্স চালু না থাকায় কারণে অনেকে শিক্ষার্থী জেলার বাইরে পড়তে পারছে না। কৌশিক বড়ুয়া জানান,কলেজে ছাত্রাবাস নেই। এতে করে দূরদূরন্ত থেকে আসা শিক্ষার্থীদের কষ্ট হয়।

সোহেল চাকমা জানান, কলেজ বাস অপ্রতুল। একটি বাস দিয়ে শিক্ষার্র্থীদের আসা যাওয়া কঠিন।

স্বাগম চাকমা জানান, কলেজের বিরাজিত সমস্যা নিয়ে বহুবার মানববন্ধন,ঘেরাও ও স্বারকলিপি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কোন ফল পায়নি।

খাগড়াছড়ি সরকারী কলেজের বিসিএস সাধারন শিক্ষা সমিতির সম্পাদক প্রভাষক তথ্য কর্মকর্তা মো: রাশেদুল হক জানান, ২০০৮ সালে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিষয়ে স্মাতকক্তোর, স্নাতক (সম্মান) ও এ্ইচএসসি কোর্স চালু হলেও মাত্র তিনজন শিক্ষক দিয়ে চলছে। অন্যদিকে ২০১০ সালে চালু হওয়া ইতিহাস বিভাগে স্নাতক সম্মন কোর্স চালু থাকলেও শিক্ষক রয়েছেন মাত্র চারজন। অথচ এনাম কমিশনের সুপারিশ হিসেবে ১২ জন করে শিক্ষক থাকার কথা।

তিনি জানান,খাগড়াছড়ি সরকারী কলেজে তৃতীয় শ্রেনীর ৯টি পদের বিপরীতে একমাত্র একজন কর্মরত। ৪র্থ শ্রেনী কর্মচারী ১৭টি পদের বিপরীতে রয়েছে ১১জন। এছাড়া কম্পিউটার অপারেটরের পদটি বছরের পর বছর ধরে শূন্য থাকায় প্রশাসনিক কাজ অনেকটা মুখ থুবড়ে পড়েছে।

কলেজের একটি গ্রন্থাগার থাকলেও গ্রন্থাগারে পর্যাপ্ত পাঠ্যবইয়ের অভাব রয়েছে।বিদ্যমান কম্পিউটার ল্যাবরেটরিতে প্রয়োজনী কম্পিউটার না থাকায় তথ্যপ্রযুক্তিতে পিছিয়ে পড়ছি শিক্ষার্থীরা।

খাগড়াছড়ি সরকারী কলেজে অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মো: আব্দুস সবুর খান, নিজেরও আবাসনের ব্যবস্থা নেই। একটি জড়াজীর্ণ শিক্ষক নিবাস যা ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। কলেজে শিক্ষক সংকট তীব্র। ছাত্রাবাস নেই। এলাকার চাহিদা অনুযায়ি এ কলেজে অন্তত ১৪টি বিষয়ে অনার্স বোচ চালু থাকার কথা। অথচ চালু থাকা মাত্র দুটি বিভাগেও শিক্ষক সংকট রয়েছে। কলেজে অধিকাংশ কর্মচারী পদশুণ্য। এ সব সংকট নিরসনে উবধর্তন কর্তৃপক্ষকে বহুবার জানানো হলেও কোন ফল পায়নি। তিনি খাগড়াছড়ি সরকারী কলেজের বিদ্যমান সংকট নিরসনে সংশ্লিষ্ট বিভাগের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

জাতীয়

১৮ জুলা ২০২৪

সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসতে রাজি নন কোটাব্যবস্থা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারীরা। তাদের প্ল্যাটফর্ম বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের এক বিজ্ঞপ্তিতে বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই)

জাতীয়

১৮ জুলা ২০২৪

কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের সাথে বসার বিষয়ে সরকারের ইতিবাচক বার্তার পর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, গুলি আর আলোচনা

জাতীয়

১৮ জুলা ২০২৪

কোটা সংস্কারপন্থিদের আন্দোলনে উত্তাল দেশ। এরইমধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগের সঙ্গে চলছে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া। তারই মধ্যে ধানমনণ্ডির রাপা