Search
Close this search box.

পাকিস্তানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করবো না-প্রধানমন্ত্রী

শেয়ার করুন

Facebook
X
Skype
WhatsApp
OK
Digg
LinkedIn
Pinterest
Email
Print
hasina-2
সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী।

পাকিস্তানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করবে না বাংলাদেশ। এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রবিবার (০২ অক্টোবর) গণভবনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘একটি দেশের সঙ্গে একটি দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক থাকে। পাকিস্তানের সঙ্গেও কূটনৈতিক সম্পর্ক থাকবে, আবার ঝগড়াঝাটিও হবে।’

যুদ্ধারাধীদের বিচার প্রশ্নে পাকিস্তানের বিভিন্ন মন্তব্য এবং ভূমিকার বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ী জাতি। আমরা মাথা উঁচু করে চলব। পরাজিত শক্তি অনেক কিছুই বলতে পারে। তারা পরাজিত হয়েছে, তাই তারা বলবে। তাতে আমাদের কিছু আসে যায় না। কারণ, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার আমরা করে যাচ্ছি।’

প্রধানমন্ত্রী তার সাম্প্রতিক (১৭ দিনের) কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্র সফর বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন দিক তুলে ধরে সাংবাদিকদের নানা প্রশ্নের উত্তর দেন।

তিনি বিভিন্ন দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক ফলপ্রসূ আলোচনার বিষয়েও আলোকপাত করেন। এই সফরকে অত্যন্ত সফল ও ফলপ্রসূ উল্লেখ করে এতে বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি আরো উজ্জ্বল হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জনপ্রশাসন মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, এলজিআরডি ও সমবায় মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী, মিডিয়া উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলমসহ মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, উপদেষ্টা, সংসদ সদস্য এবং সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের শীর্ষ ব্যক্তিত্ব ও সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রীর পুত্র ও আইসিটি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তির উন্নয়ন ও বিকাশে দীর্ঘদিন কর্মরত থাকার স্বীকৃতিস্বরূপ ‘আইসিটি ফর ডেভেলপমেন্ট অ্যাওয়ার্ড’-এ ভূষিত হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী মা হিসেবে গর্ব প্রকাশ করে সকলের কাছে তার জন্য দোয়া কামনা করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে একটি স্যাঁতসেঁতে ঘরে চরম উদ্বেগ আর উৎকন্ঠার পরিবেশে তার (সজীব ওয়াজেদ জয়) জন্ম। সে সময় একটি সুস্থ বাচ্চা যে আল্লাহতায়ালা আমাকে দিয়েছেন সেজন্য আল্লাহর কাছে শুকরিয়া জানাই। আপনারা তার জন্য দোয়া করবেন।’

প্রধানমন্ত্রীকে এবার জাতিসংঘের ৭১তম সাধারণ অধিবেশনে যোগদানের জন্য নিউইয়র্কে অবস্থানকালে ‘প্লানেট ফিফটি ফিফটি চ্যাম্পিয়ন’ এবং গ্লোবাল পার্টনারশিপ ফোরাম ‘এজেন্ট অব দ্য চেঞ্জ’ পুরস্কারে ভূষিত করে বলেও প্রধানমন্ত্রী সংবাদ সম্মেলনে জানান।

সফরের শেষ পাঁচদিন ওয়াশিংটনে পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়ের সঙ্গে অবস্থাকালে প্রতিদিন ২ ঘন্টা করে অনলাইনে অফিস করে ৫১টি জরুরি ফাইল স্বাক্ষর করেছেন বলেও প্রধানমন্ত্রী জানান।

কানাডা সফরের কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘কানাডায় গ্লোবাল ফান্ড সম্মেলনের ফাঁকে জাস্টিন ট্রুডোর সঙ্গে বৈঠক করি। বৈঠকে সে দেশের প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো দু’দেশের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরো সুসংহত করার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের অবস্থানেরও প্রশংসা করেন।’

তিনি আরো বলেন, ‘বৈঠকে বঙ্গবন্ধুর পলাতক খুনি নূর চৌধুরীকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে আলোচনা হয়। তিনি (জাস্টিন ট্রুডো) এ নিয়ে সে দেশের আইনি বাধার কথা উল্লেখ করেন। তবে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করে কিভাবে স্পর্শকাতর ইস্যুটির সুরাহা করা যায়, এর উপায় খুঁজতে দুদেশের উপযুক্ত প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনা শুরুর পক্ষে মত দেন।’

প্রধানমন্ত্রী জানান, তিনি জাস্টিন ট্রুডোকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন এবং ট্রুডো তা সানন্দে গ্রহণ করেছেন।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বক্তৃতা দেওয়া প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রতিবারের মতো এবারো আমি বাংলায় ভাষণ দেই। ভাষণে অভিবাসী ও শরণার্থী ইস্যুটিকে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার অনুরোধ করি। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আমি সন্ত্রাসী ও জঙ্গিদের পরামর্শদাতা, মূল পরিকল্পনাকারী, মদদদাতা, পৃষ্ঠপোষক, অর্থ ও অস্ত্র সরবরাহকারী এবং প্রশিক্ষকদের খুঁজে বের করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানাই।’

ভাষণে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নের জন্য বিশ্বজুড়ে শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন বলেও জানান শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মায়ানমার থেকে বাংলাদেশে আগত শরণার্থীদের সমস্যা সমাধানের কথা তুলে ধরেছি জাতিসংঘে। এ বিষয়ে আমরা একটি সমাধান চাই বলেও জানিয়েছি তাদের।’

সংবাদ সম্মেলনে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে বর্তমানের উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সম্পর্কে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘হ্যাঁ, এটা সত্যিই খুব উদ্বেগজনক। আমরা চাই না দুই দেশের মধ্যে এ সময়ে কোনো রকম উত্তেজনা ও যুদ্ধ-বিগ্রহের সৃষ্টি হোক। এটা আমরা চাই না। এটা সব সময় মনে রাখতে হবে যে এই ধরনের কোনো ঘটনা যদি ঘটে তাহলে আমরাও ক্ষতিগ্রস্ত হব। আমাদের যে উন্নয়নের অগ্রযাত্রাটা শুরু হয়েছে, সেটা ব্যাহত হবে।’

বাংলাদেশে আওয়ামী লীগই একমাত্র রাজনৈতিক দল যাদের নিয়মিত সম্মেলন হয়েছে উল্লেখ করে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের তৃণমূল পর্যায় থেকে আসা কাউন্সিলররাই দলের আগামী নেতৃত্বের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।’

তিনি আরো বলেন, ‘আর কারো কথা নয়- আমার কথা বলতে পারি, আমার তো এই সংগঠনের নেতৃত্বে ৩৫ বছর হয়ে গেছে। যদি আমাকে রিটায়ার করার সুযোগ দেয় তাহলে আমি খুশি হব।’

নেতৃত্বে না থাকলেও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা সংগঠনের কাজ চালিয়ে যাবার আকাঙ্খা ব্যক্ত করে বলেন, ‘আমি তো দল ছেড়ে যাব না। দলে থাকব। তবে তারা যদি নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন করেন তাহলে আমিই সবচেয়ে বেশি খুশি হব। আর আমি যা করি তা কিন্তু সকলকে নিয়ে মতামতের ভিত্তিতেই করি।’

শেখ হাসিনা নির্বাচন কমিশন নিয়ে বিএনপির সমালোচনা প্রসঙ্গে বলেন, ‘তারা এমন নির্বাচন কমিশন চায়, যারা ভুয়া ভোটার তালিকা তৈরি করবে। ১ কোটি ৩১ লাখ ভুয়া ভোটার বানাবে। তাদের ক্ষমতাকালে ভোটাধিকার ছিল না। বরং মিরপুর, মাগুরায় ভুয়া ভোটাররা ভোট দিয়েছে, রমনা-তেজগাঁও আসনের নির্বাচনেও ভোটাররা ভোট কেন্দ্রে যেতে পারেনি। দেশবাসী এসব ভুলে যায়নি।’

প্রসঙ্গত, কানাডায় গ্লোবাল ফান্ড সম্মেলন এবং যুক্তরাষ্ট্রে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে গত ১৪ সেপ্টেম্বর ঢাকা ত্যাগ করেন প্রধানমন্ত্রী। দীর্ঘ ব্যস্ত সফরের পর ৩০ সেপ্টেম্বর বিকেলে তিনি দেশে ফিরেন। এই সফরের বিভিন্ন বিষয়ে আলোকপাত করতেই রবিবার প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সূত্র : বাসস।

জাতীয়

১৮ জুলা ২০২৪

সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসতে রাজি নন কোটাব্যবস্থা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারীরা। তাদের প্ল্যাটফর্ম বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের এক বিজ্ঞপ্তিতে বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই)

জাতীয়

১৮ জুলা ২০২৪

কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের সাথে বসার বিষয়ে সরকারের ইতিবাচক বার্তার পর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, গুলি আর আলোচনা

জাতীয়

১৮ জুলা ২০২৪

কোটা সংস্কারপন্থিদের আন্দোলনে উত্তাল দেশ। এরইমধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগের সঙ্গে চলছে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া। তারই মধ্যে ধানমনণ্ডির রাপা