ফন্ট সাইজ

শেয়ার করুন

Facebook
X
Skype
WhatsApp
OK
Digg
LinkedIn
Pinterest
Email
Print

“জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান” স্বীকৃতি নিয়েই মরতে চান সুজিত নাগ

সংবাদটি পড়তে সময় লাগবে মিনিট

ctg-sujit-nag-2
মুক্তিযোদ্ধা সুজিত নাগ।

জীবনের পড়ন্ত বেলায় এসে দাড়িয়েছেন চট্টগ্রামের বোয়ালখালীর সারোয়াতলী গ্রামে মুক্তিযোদ্ধা সুজিত নাগ। তিনি পিতা স্বর্গীয় মনমোহন নাগ ও মাতা সুষমা নাগের ৬ ছেলে ও ১ মেয়ের মধ্যে কনিষ্ট সন্তান।

এ মুক্তিযোদ্ধার দুই ছেলে পীযুষ নাগ ও মিথুন নাগ। বড় ছেলে মিথুন ভারতের বেলুড় মঠে আছেন। ছোট ছেলে পীযুষ একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকুরী করে। আজ থেকে ৩৫ বছর আগে মারা যায় স্ত্রী। এরপর একা হয়ে পড়েন তিনি।

মা-মাটির স্মৃতি বিজড়িত এ গ্রাম ছেড়ে তিনি যাননি আর কোথাও। ছেলেরা শহরে নিয়ে যেতে চেয়েছিল। যাননি, যেতে পারেননি শেঁকড়ের টানে।

বিজয়ের মাসে যুদ্ধকালিন সময়ের স্মৃতি চারণ করতে গিয়ে পাঠক ডট নিউজের সাথে একান্ত আলাপকালে তিনি বলেন, ১৯৭১ সাল। বয়স তখন ২৬। দেশ উত্তাল, পাকিস্তানী সৈন্যরা একের পর এক বর্বরতা শুরু করেছে, নিরীহ মানুষ মারছে, মা -বোনদের উপর অত্যাচার করছে। সিদ্ধান্ত নিই যুদ্ধ যাব। কুমিল্লা হয়ে ভারতে চলে যায়। প্রশিক্ষণ শেষে যুদ্ধে অংশ নিই। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত যুদ্ধ করেছি।

স্বাধীনতার পর ১৯৭৪ সাল। বোয়ালখালীতে তখন সার্কেল অফিসার ছিলেন এনামুল হক। এসময় বহু নির্যাতন করা হয় আমার উপর। নিয়ে যাওয়া হয় কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট। সেখান থেকে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী উদ্ধার করেন। এরপরও স্বাধীন দেশে মামলা দিয়ে হয়রানি করেছে বহুবার। তিনবার জেল কেটেছি।

মুক্তিযোদ্ধা সুজিত নাগ বলেন, স্বাধীনতার পর এক বান টিনও পায়নি, পায়নি কোনো সরকারি সুবিধা। বর্তমানে ১০হাজার টাকা করে ভাতা পাচ্ছি। এতেই আমার চলে যায়।

তিনি বলেন, খারাপ লাগে তখন, যখন দেখি ১৯৭১ সালে যারা মুক্তিযুদ্ধ করেননি, তারা আজ মুক্তিযোদ্ধা সেজে সরকারি ভাতা তুলছে। তাদের বিরুদ্ধে কিছু বলতেও ভয় লাগে, কেন না তারা সংখ্যায় বেশি। স্বাধীনতার পরে দেশে এসে অনেকে মুক্তিযোদ্ধা সেজেছেন।

নিজের মুক্তিই হয়নি কিভাবে দেশের মুক্তির কথা বলে। তারা যখন মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে বক্তব্য দিতে দেখি। সঠিক ঘটনা হলেও তা আজ বলা সম্ভব নয়। তাদের ক্ষমতা দাপট এত বেশি, যা বললে প্রাণ সংশয় রয়েছে বলেও জানান তিনি।

তিনি বলেন, ঘৃণা হয়, প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা যখন দিনমজুরী করছে। সারোয়াতলীর জাফর, ভূপাল পারিয়াল, বিমল দে, পুলিন দাশ ধনা, অনন্ত বিশ্বাসসহ অনেকে অন্ধ হয়ে ধুকে ধুকে মরছে। তাদের বউ ছেলে মেয়েরা মানুষের বাড়ীতে কাজ করে সংসার চালান। তাদের পক্ষে সম্ভব না মন্ত্রণালয়ে যাওয়া, ২০হাজার টাকা দিয়ে সনদ নেয়া। এমন ঘটনাও ঘটেছে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী সনদ পেতে ঢাকায় গিয়ে লাঞ্চিত হতে হয়েছে।

যখন সরকার ভাতা দেয়নি তখন কি মুক্তিযোদ্ধা সনদ পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছিল, না। তখন মুক্তিযোদ্ধা সংখ্যা কতছিল, আজ কত? প্রশ্ন রাখেন তিনি।

ctg-sujit-nag
“খারাপ লাগে তখন, যখন দেখি ১৯৭১ সালে যারা মুক্তিযুদ্ধ করেননি, তারা আজ মুক্তিযোদ্ধা সেজে সরকারি ভাতা তুলছে”

তিনি বলেন, দেশের মাটিকে রক্ষা করা, দেশের নাগরিকের দায়িত্ব। সে দায়িত্ব বোধের কারণে যুদ্ধে গিয়েছিলাম। কোনো সার্টিফিকেটের জন্য যুদ্ধে যায়নি। অথচ আজ ভূয়ারা শতশত সার্টিফিকেট নিয়ে দাঁড়িয়েছে।

শাস্তির বিধান রেখে যদি মুক্তিযোদ্ধা দাবিদারদের যাচাই বাচাই করা হয়, দেখবেন অনেকে পালিয়ে যাবে। সরকারের টাকা যাকে ইচ্ছা তাকে দেবে, তাতে আমার কি। তবে খারাপ লাগে তখন, যখন মনে প্রশ্ন জাগে এসব চোরদের জন্য কি যুদ্ধে গিয়েছিলাম। দেশ স্বাধীন করেছিলাম?

মরার জন্যই যুদ্ধে গিয়েছিলাম। বাঘের মতো বার বছর বাঁচায় অনেক আনন্দ। কুকুরের মতো বহুবছর বছর বেঁচে থেকে লাভ কি বলে, প্রশ্ন রাখেন তিনি।

জীবনে অসর্ততামূলক কোনো কাজ করিনি। সৎ ছিলাম বলেই মুক্তিযুদ্ধে গিয়েছিলাম। মুক্তিযোদ্ধা পরিচয়ে কারো কাছে হাত পাতিনি। কেন না জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান হিসেবে তা পারিনি, আত্মমর্যাদার জন্য।

সারোয়াতলীতে চট্টগ্রামের বিশিষ্টজনদের নিয়ে বোয়ালখালীর প্রথম স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করেছিলাম। এ স্মৃতিসৌধে শহীদ ভবন করার স্বপ্নে নাম দিয়েছিলাম শহীদ ভবন। এর জন্য স্যার আশুতোষ কলেজের অধ্যক্ষ আবদুর রহিম প্রায় ৫০ শতক জায়গা দিয়েছিলেন। মনে বেদনা রয়ে গেছে, ভবনটি যা আজো করা সম্ভব হয়নি।

এখন পড়ন্ত বেলায় এসে গেছি। জাতি শ্রেষ্ঠ সন্তান হিসেবে যে স্বীকৃতি দিয়েছে তা নিয়ে মরতে চায় এ মাটির বুকেই।

সর্বশেষ

হালিশহরে গ্যাস বিস্ফোরণের ঘটনায় পাঁচজনের মৃত্যু

মিরসরাইয়ে কৃষকের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার

পিলখানা হত্যাকাণ্ড: বিস্ফোরক আইনের মামলায় আসামি হচ্ছেন শেখ হাসিনা

হালিশহরে ঘরে জমে থাকা গ্যাসের বিস্ফোরণে নারী-শিশুসহ নয়জন দগ্ধ

প্রথমবার তেজগাঁওয়ে অফিস করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

কোতোয়ালীতে মিছিলের চেষ্টাকালে আওয়ামী লীগের আটজন গ্রেপ্তার

চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব নিয়ে বিভ্রান্তিকর বক্তব্যের প্রতিবাদ

Facebook
X
Skype
WhatsApp
OK
Digg
LinkedIn
Pinterest
Email
Print