ফন্ট সাইজ

শেয়ার করুন

Facebook
X
Skype
WhatsApp
OK
Digg
LinkedIn
Pinterest
Email
Print

পরিকল্পনা একজনের, হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয় ৯ জন!

সংবাদটি পড়তে সময় লাগবে মিনিট

d5a71b820232f48d69ea268610bb9438-5753f3d82b2c1
ফাইল ছবি: এসপি বাবুল আক্তার ও তার নিহত স্ত্রী মিতু।

পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের স্ত্রী মিতু হত্যাকাণ্ডের রহস্য উম্মোচনের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে বলে দাবি করছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের ২০ দিনেও প্রকৃত খুনিদের চিহ্নিত করতে না পারলেও পুলিশ বলছে মিতু হত্যাকাণ্ডের রহস্যে উন্মোচনের দ্বার প্রান্তে রয়েছে পুলিশ। একজন মাত্র ব্যক্তির পরিকল্পনায় ৯ জন ভাড়াটে খুনির মাধ্যমে হত্যাকাণ্ড বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এমন তথ্য তারা পেয়েছেন।

তবে মিতু হত্যা মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে সরাসরি কোন মন্তব্য না করে সিএমপি পুলিশ কমিশনার ইকবাল বাহার বলেছেন, আমরা শিগগিরই এ ব্যাপারে আপনাদের ভালো খবর দিতে সক্ষম হব। এ জন্য আর কিছু সময় ধৈর্য ধরতে হবে।

মামলা তদন্তে থাকা ডিবি পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, মাহমুদা খানম মিতু হত্যাকাণ্ড মাত্র এক ব্যাক্তির পরিকল্পনায় ৯ জন ভাড়াটে খুনির মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

হত্যাকাণ্ডে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে সম্পৃক্ত অন্তত ৫ জন বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছে বলে পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। এই হত্যাকাণ্ডের অগ্রগতির ব্যাপারে চট্টগ্রামের পুলিশ কর্মকর্তারা সরাসরি কোন মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানালেও শিগগিরই এই হত্যারহস্য উন্মোচিত হবে বলে মন্তব্য করেছেন।

এদিকে বিভিন্ন সূত্রে জানাগেছে, মিতু হত্যায় সরাসরি জড়িত সন্দেহে আবু মুছা (৪৫) ও এহতেশামুল হক ভোলা (৩৮) নামে দুই ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশের একটি ইউনিট। মুছাকে গত মঙ্গলবার সকালে চকবাজার এলাকা থেকে ও একইদিন বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে রাজাখালী গুলবাহার কমিউনিটি সেন্টারের সামনে থেকে ভোলাকে পুলিশ তুলে নিয়ে যায় বলে দাবি করেছে এদের পরিবার।

BABUL-03
ঘটনাস্থলে নিহত মিতুর নিথর দেহ পড়ে আছে। ইনসেটে মিতুর ফাইল ছবি।

পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, এরা দু’জনই এসপি বাবুল আক্তারের সোর্স হিসেবে কাজ করতেন। বাবুল আক্তারের বসবাস ও পরিবার সম্পর্কে তাদের ভালো ধারণা রয়েছে। বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত ও প্রমাণের ভিত্তিতে পুলিশ মনে করছে, তৃতীয় কোনো পক্ষের কাছ থেকে টাকা নিয়ে অর্থাৎ ভাড়াটে খুনি হিসেবে তারা মিতুকে হত্যা করেছে। এজন্যই তাদের আটক করা হয়। শিগগিরই তাদের গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে তোলা হবে। তাদের দুজনকে বর্তমানে বন্দর থানায় রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তবে পুলিশ কর্মকর্তারা ভোলা ও মুছাকে আটকের বিষয়টি করেছেন না।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ভোলা একসময় সন্ত্রাসী ছিল। এখন তিনি ৩৫ নম্বর বকশিরহাট ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। তার বিরুদ্ধে রয়েছে একাধিক মামলা। আবু মুছা দুর্ধষ সন্ত্রাসী। অনেক সময় ভাড়াটে খুনি হিসেবে কাজ করেন। তার বাড়ি রাঙ্গুনিয়ার রানীহাট এলাকায়। এসপি বাবুল আক্তারের হাতে একবার গ্রেফতারও হয়েছিলেন তিনি। বেশ কিছুদিন ধরে দু’জনই বাবুল আক্তারের সোর্স হিসেবে কাজ করছেন। পুলিশের ওই বিশ্বস্ত সূত্র আরও জানিয়েছে, ভোলা ও মুছাকে নগরীর বন্দর থানায় রাখা হয়েছে।

সূত্র জানায়, মিতুকে যে স্থানে হত্যা করা হয় সেই জিইসি মোড়ে বসানো টাওয়ারের অধীনে যেসব মোবাইল ফোন থেকে কল ইনকামিং-আউটিগোয়িং হয়েছে তা ঘেটেও মুছা ও ভোলার ফোন ব্যবহারের তথ্য পাওয়া গেছে। পারিপার্শ্বিক বিভিন্ন ঘটনার সঙ্গে মুছা ও ভোলার যোগসাজশ এবং ঘটনার সঙ্গে নানা কারণে তাদের সংশ্লিষ্টতা বিবেচনায় নিচ্ছে পুলিশ। এর মধ্যে মুছাকেই এ ঘটনার মূল হোতা হিসেবে দাবি করছে পুলিশের একাধিক সূত্র। তবে তাদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে জড়িত অন্যদেরও ধরার জন্য পুলিশ আটক দু’জনের ব্যাপারে মুখ খুলছে না।

পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে মিতু হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচনের দ্বার প্রান্তে রয়েছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনাকারী, হত্যাকারী এবং তাদের সহযোগিদের ব্যাপারে পুরোপুরি নিশ্চিত হয়েছেন পুলিশ কর্মকর্তারা।

এদের মধ্যে হত্যাকাণ্ডের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত ৫ জন এখন পুলিশ হেফাজতে রয়েছে বলে জানাগেছে। তবে মিতু হত্যাকাণ্ডে জঙ্গী সম্পৃক্ততা থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেননি কোন পুলিশ কর্মকর্তা।

Babul20160619071937
মা হারা দুই সন্তানকে নিয়ে দিন কাটছে পুলিশ অফিসার বাবুল অাকতারের।

পুলিশের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, মিতু হত্যাকাণ্ডের পুরো পরিকল্পনা একজন মাত্র ব্যক্তি। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেছে ভাড়াটে খুনিরা। হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশ নিয়েছে ৪ জন এবং আশে পাশে অবস্থান নিয়ে আরও ৫ জন হত্যাকাণ্ড বাস্তবায়নে সহায়তা করেছে। এ ছাড়া মিতুকে হত্যা করতে কমপক্ষে ৫ দফা চেষ্ঠা চালিয়ে ৭ দফায় হত্যাকারীরা সফল হয়েছে বলে পুলিশ তদন্তে নিশ্চিত হয়েছে।

পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের স্ত্রী হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে গত দুই দিন ধরে চট্টগ্রামের একাধিক সিনিয়র পুলিশ কর্মকর্তার সাথে কথা বলতে চাইলে তারা কেউ এ ব্যাপারে কথা বলতে রাজি হননি।

চট্টগ্রামের পুলিশ কমিশনার ইকবাল বাহার সরাসরি কোন মন্তব্য না করে বলেছেন, আমরা শিগগিরই এ ব্যাপারে আপনাদের ভালো খবর দিতে সক্ষম হবো। এ জন্য আর কিছু সময় ধৈর্য ধরতে হবে।

এদিকে পুলিশ মিতু হত্যাকাণ্ডে জঙ্গী সম্পৃক্ততার বিষয়টি খতিয়ে দেখতে কারাগার থেকে জঙ্গী সদস্য ফুয়াদকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলেও তার কাছে এই হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে উল্লেখযোগ্য কোন তথ্য পায়নি জানিয়েছেন পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে জঙ্গী ফুয়াদ হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করেছে। এ ছাড়াও মিতু হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশগ্রহনকারী হিসেবে গ্রেফতারকৃত শাহজামান রবিনকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে কোন তথ্য পায়নি পুলিশ।

তবে মিতু হত্যাকাণ্ডে তদন্ত সংশ্লিষ্ট একাধিক পুলিশ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন মিতু হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশ নিয়ে মোটর সাইকেলে পালিয়ে যাওয়া সেই তিন যুবকসহ মোট ৫ হত্যাকারী এখন পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা থেকে বাস্তবায়ন ও তৎপরবর্তী অবস্থার পুরো চিত্র এখন পুলিশের হাতে এসে গেছে বলে পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। শিগগিরই এই হত্যারহস্য উন্মোচিত হবে বলে জানিয়ে পুলিশ কর্মকর্তারা বলেছেন ‘জাস্ট ওয়েট এন্ড সি’।

উল্লেখ্য চলতি মাসের ৫ তারিখ নগরীর ওআর নিজাম রোড (জিইসির মোড়) এলাকায় প্রকাশ্য দিবালোকে গুলি ও ছুরিকাঘাত করে দুর্বৃত্তরা এসপি বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতুকে হত্যা করে।

সর্বশেষ

হালিশহরে গ্যাস বিস্ফোরণের ঘটনায় পাঁচজনের মৃত্যু

মিরসরাইয়ে কৃষকের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার

পিলখানা হত্যাকাণ্ড: বিস্ফোরক আইনের মামলায় আসামি হচ্ছেন শেখ হাসিনা

হালিশহরে ঘরে জমে থাকা গ্যাসের বিস্ফোরণে নারী-শিশুসহ নয়জন দগ্ধ

প্রথমবার তেজগাঁওয়ে অফিস করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

কোতোয়ালীতে মিছিলের চেষ্টাকালে আওয়ামী লীগের আটজন গ্রেপ্তার

চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব নিয়ে বিভ্রান্তিকর বক্তব্যের প্রতিবাদ

Facebook
X
Skype
WhatsApp
OK
Digg
LinkedIn
Pinterest
Email
Print