Search
Close this search box.

দুই মন্ত্রী আইন লঙ্ঘন ও শপথ ভঙ্গ করেছেন-আপীল বিভাগ

শেয়ার করুন

Facebook
X
Skype
WhatsApp
OK
Digg
LinkedIn
Pinterest
Email
Print
2ministar_19395
দণ্ডপ্রাপ্ত খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম।                                   মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক।

আদালত অবমাননার দায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হকের মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়েছে। বিচারপতিদের স্বাক্ষরের পর প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে বৃহস্পতিবার (০১ সেপ্টেম্বর) ৫৪ পৃষ্ঠার রায়ের অনুলিপি প্রকাশ করা হয়।

মানবতাবিরোধী অপরাধে মীর কাসেম আলীর মামলার আপিলের রায়ের আগে প্রধান বিচারপতি ও বিচার বিভাগ সম্পর্কে অবমাননাকর বক্তব্য দেন দুই মন্ত্রী। এর প্রেক্ষিতে চলতি বছর ২৭ মার্চ তাদের দোষী সাব্যস্ত করে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড ও অনাদায়ে সাত দিনের কারাদণ্ড দেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। আপিল বিভাগের ৮ বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ এই রায় দিয়েছিলেন।

রায়ে তাদের দোষী সাব্যস্ত করা ও দণ্ড দেওয়ার ব্যাপারে সকল বিচারপতি একমত পোষণ করলেও তাদের শপথ ভঙ্গের বিষয়ে মতানৈক্য রয়েছে। তাই পূর্ণাঙ্গ রায়টি ৫ জনের সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে প্রকাশিত হয়েছে। সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামত সম্বলিত রায়টি লিখেছেন আপিল বিভাগের বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলী। তার সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা, আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞা, বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা এবং বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার।

এর সঙ্গে ভিন্নমত পোষণ করে রায় লিখেছেন বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী। তার সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও বিচারপতি মো. নিজামুল হক।

আপিল বিভাগের রায়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, ‘তারা (দুই মন্ত্রী) আইন লঙ্ঘন করেছেন এবং সংবিধান সমুন্নত রাখার যে শপথ নিয়েছেন তা লঙ্ঘন করেছেন। আমাদের সন্দেহ নেই যে, বিবাদীরা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বক্তব্য রেখেছেন এবং তারা তাদের দোষ স্বীকার করে নিয়েছেন। তারা আইন ভঙ্গের কাজ করেছেন।’

রায়ে বলা হয়, বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্নে তুলে তারা (দুই মন্ত্রী) তারা বিচার বিভাগের মর্যাদাকে খাটো করেছেন। তারা রায় প্রদান প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করে সুপ্রিম কোর্ট সম্পর্কে কুৎসা রটনা করেছেন। এটা মারাত্মক ফৌজদারী আদালত অবমাননা এবং সংবিধানে প্রদত্ত ব্যবস্থার লঙ্ঘন। এ কারণে তারা সহানুভুতি পেতে পারেন না। এজন্য তাদের নূন্যতম সাজা দেওয়ার আদেশ দেওয়া হয়েছে।

তবে সংখ্যাগরিষ্ঠের রায়ে দোষী সাব্যস্ত ও জরিমানার বিষয়ে একমত হলেও তিন বিচারপতি (বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও বিচারপতি মো. নিজামুল হক) শপথ ভঙ্গের বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করেছেন। এ বিষয়ে তাদের অভিমত- দু’জন আদালত অবমাননার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত ও জরিমানা করা নিয়ে আমাদের কোনো দ্বিমত নেই। তবে সংবিধান রক্ষার শপথ ভেঙেছেন, এ বিষয়ে একমত হতে পারছি না।

তিন বিচারক আরও অভিমত দেন- তাদের (দুই মন্ত্রী) শপথ ভঙ্গ করার বিষয়টি এই আদালতের বিচার্য্য বিষয় ছিল না। শপথ ভঙ্গের বিষয়টি তাদের নজরেও (নোটিশে) আনা হয়নি। যারা এখনও মন্ত্রী হিসেবে মন্ত্রিসভায় রয়েছেন। সংবাদপত্রে প্রকাশিত রিপোর্টের ভিত্তিতে তারা আদালত অবমাননা করেছেন কি করেননি-সেটাই বিবেচ্য বিষয়।

উল্লেখ্য, চলতি বছর গত ৫ মার্চ ঢাকায় ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির এক গোলটেবিল বৈঠকে আলোচনায় খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক মীর কাসেমের রায় নিয়ে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার সমালোচনা করেছিলেন। এরপর ৮ মার্চ মীর কাসেমের আপিলের রায়ের দিন দুই মন্ত্রীর বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল জারি করেন।

সেই রুলের ওপর তিন কার্যদিবস শুনানির পর ২৭ মার্চ মামলার রায় দেওয়া হয়। রায়ে খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হককে ৫০ হাজার টাকা অর্থ দণ্ড প্রদান করা হয়। সাত দিনের মধ্যে এই অর্থ ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতাল ও লিভার ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশকে দিতে বলা হয়। অনাদায়ে সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন আদালত। অবশ্য নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দুই মন্ত্রী জরিমানার অর্থও প্রদান করেছেন।

জাতীয়

১৮ জুলা ২০২৪

সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসতে রাজি নন কোটাব্যবস্থা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারীরা। তাদের প্ল্যাটফর্ম বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের এক বিজ্ঞপ্তিতে বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই)

জাতীয়

১৮ জুলা ২০২৪

কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের সাথে বসার বিষয়ে সরকারের ইতিবাচক বার্তার পর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, গুলি আর আলোচনা

জাতীয়

১৮ জুলা ২০২৪

কোটা সংস্কারপন্থিদের আন্দোলনে উত্তাল দেশ। এরইমধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগের সঙ্গে চলছে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া। তারই মধ্যে ধানমনণ্ডির রাপা