
নিজের ছোট ভাই ও দলের কো-চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদেরকে পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ করেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ।
শনিবার (৪ মে) রাত ১১টার এরশাদ তার বারিধারার প্রেসিডেন্ট পার্কস্থ বাসভবনে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি তিনি এ ঘোষণা দেন।
তিনি এক সাংগঠনিক নোটিশে বলেন, আমার শাররিক অসুস্থতার জন্য পার্টির কর্মকান্ড পরিচালনায় বিঘ্ন হচ্ছে। পরবর্তী ঘোষণা না দেয়া পর্যন্ত জিএম কাদের পার্টির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করবেন।
এসময় পার্টির যুগ্ম-মহাসচিব হাসিবুল ইসলাম জয়সহ জাপার কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
এই তথ্য নিশ্চিত করেন জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য ফখরুল ইমাম বলেন, ‘আমি মাত্রই শুনলাম জিএম কাদেরকে জাপার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ করেছেন এরশাদ। তার অসুস্থতার কারণেই তিনি তা করেছেন বলে শুনেছি।’
দলটির প্রেসিডিয়ামের একজন সদস্য জানান, এরশাদ হাতে স্বাক্ষর করতে পারছেন না অসুস্থতার কারণে। এজন্যই সংবাদ সম্মেলন ডেকে এই কথা সাংবাদিকদের জানিয়েছেন তিনি।
রাত ১১টায় প্রেডিডেন্ট পার্কের সংবাদ সম্মেলনে এরশাদ জরুরি ভিত্তিতে এই সংবাদ সম্মেলন ডাকা হয় বলে রাত ১১টার আগে জানিয়েছিলেন জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মনিরুল ইসলাম মিলন। তিনি বলেছিলেন, ‘এই মুহূর্তে খুব জরুরিভাবে পার্টির অভ্যন্তরীণ কিছু বিষয়ে কথা বলতে চান তিনি (এরশাদ)।’
উল্লেখ্য, এ নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো ছোটভাইকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দিলেন দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ থাকা জাপা চেয়ারম্যান এরশাদ।
এর আগে, ২০১৬ সালের ১৭ জানুয়ারি রংপুরে জাতীয় পার্টির কর্মী সম্মেলনে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ তার ছোট ভাই জিএম কাদেরকে কো-চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিলেন। পরে রওশনপন্থীরা বাধা হলে রওশন এরশাদকে সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান করেন তিনি। কিন্তু গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সংসদে বিরোধী দলের উপনেতা হিসেবে কাদেরকে বেছে নেন। এই বছরের জানুয়ারির তৃতীয় সপ্তাহে গুরুতর অসুস্থ হয়ে সিঙ্গাপুর যাওয়ার আগে ছোট ভাই জিএম কাদেরকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেন এরশাদ। কিন্তু গত ২২ মার্চ পার্টির কো-চেয়ারম্যান পদ থেকে জিএম কাদেরকে সরিয়ে দেন। পার্টির গঠনতন্ত্রের ২০/১/ক ধারা অনুযায়ী ওই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন তিনি।
