
রংপুর নগরীর কলেজপাড়ায় রমজান আলী নামে এক যুবককে ধারালো ব্লেড দিয়ে গলা কাটার অভিযোগে তার স্ত্রী শিউলি বেগমকে আটক করেছে পুলিশ। পরকীয়া প্রেমের সূত্র ধরে শিউলি তাকে খুন করতে চেয়েছিল বলে রমজানের পরিবার দাবি করছে। তবে এ ব্যাপারে এখনও কোনো মামলা হয়নি।
সোমবার (৯ নভেম্বর) রাতের খাবারের পর পরিবারের সবাই ঘুমিয়ে পড়ে। তার ২টার দিকে রমজান আলীর দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী বাবা গোয়াল ঘরে গোঙানির শব্দ শুনে চিৎকার চেঁচামেচি করে ছেলের স্ত্রী শিউলিকে ডাকেন। এ সময় আশপাশের লোকজনও ছুটে আসেন। তারা রক্তাক্ত অবস্থায় দেখে রমজানকে গোয়ালঘর থেকে বের করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।
এক প্রতিবেশী নারী জানান, চিৎকার শুনে দৌড়ে এসে দেখি গোয়াল ঘরে রক্তাক্ত অবস্থা। সবাই ধরাধরি করে ঘর থেকে বের করে তাকে উঠানে রাখে ওরা। আমি বলছিলাম আগে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান। আরেকজন বলেন, গরু জবাই করার পর যেমন শব্দ হয়, রমজানের গলা দিয়ে তেমন শব্দ বের হচ্ছিল, রক্ত বের হচ্ছিল।
উপস্থিত সবার ধারণা, ধারালো ব্লেড দিয়ে গুরুতরভাবে গলা কেটে তাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে।
কাটা গলা নিয়ে রংপুর মেডিকেলে ভর্তি রমজানের অবস্থা গুরুতর বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক। কণ্ঠ ও খাদ্যনালি কেটে যাওয়ায় কথা বলতে পারছেন না।
রমজানের পরিবারের সদস্যরা জানান, পরকীয়ার জেরে তার স্ত্রী শিউলি এ ঘটনা ঘটিয়েছে। তাদের দাবি, শিউলি ছাত্রদের মেসে রান্নার কাজ করতো। সেখানেই তার সঙ্গে এক ছাত্রের প্রেমের সম্পর্ক হয়। যা নিয়ে এর আগে বিচার সালিশও হয়েছে। তবে পরকীয়া প্রেমিকের নাম পরিচয় জানাতে পারেনি তারা।
কিন্তু এ ঘটনায় পুলিশের কাছে কোনো অভিযোগ দায়ের হয়নি। রংপুর মহানগর পুলিশের মিডিয়া উইংয়ের প্রধান ডিবি পুলিশের সহকারী কমিশনার সাজ্জাদ হোসেন জানান, পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দেওয়া হলে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
তবে তাজহাট থানা পুলিশ ঘটনার রাতেই শিউলিকে আটক করেছে বলে জানা গেছে। এরই মধ্যে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা করছে।