ফন্ট সাইজ

শেয়ার করুন

Facebook
X
Skype
WhatsApp
OK
Digg
LinkedIn
Pinterest
Email
Print

বাস্তবেই ঘটলো “ছুটির ঘন্টা” সেই সিনেমার কাহিনী

সংবাদটি পড়তে সময় লাগবে মিনিট

.

সেই জনপ্রিয় সিনেমা ‘ছুটির ঘণ্টা’ই যেন ফিরে এলো আবার। আজিজুর রহমান পরিচালিত ১৯৮০ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত শিশুতোষ চলচ্চিত্র ছুটির ঘন্টা কাহিনীই যেন আবার ফিরে এলো বাস্তবে সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নের ফতেপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।

সিনেমার চরিত্রে ১২ বছরের বালকটি ছিল আসাদুজ্জামান খোকন (সুমন)। কিন্তু বাস্তবের চরিত্রটি ১১ বছরের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র লিয়ন দাস।

ছুটির ঘণ্টা সিনেমায় ঈদের ছুটি ঘোষণার দিন ১২ বছরের ছাত্র খোকন স্কুলের বাথরুমে আটকা পড়েছিল। কী নিদারুণ কষ্ট নিয়ে টানা ১১ দিন সে আটকে ছিল সেই বাথরুমে! বাঁচার আকুলতায় ক্ষুধার জ্বালা মেটাতে নিজের বই-খাতা, টাকা আর বাথরুমে পড়ে থাকা কাগজও খেয়েছিল সে। কিন্তু ১১ দিনের ছুটি শেষে যখন খোকনকে সেই বাথরুম থেকে বের করা হলো, ততক্ষণে তার জীবনের ছুটির ঘণ্টা বেজে গেছে।

সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নের ফতেপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় গত বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটায় স্কুল ছুটির ঘণ্টা দেওয়া হয়। শুক্রবার স্কুল বন্ধ। সবাই বই-খাতা নিয়ে হই-হুল্লোড় করে স্কুল থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে। তখন পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র লিয়ন দাসও (১১) বইখাতা গুছিয়ে ক্লাস থেকে বের হয়। তারপর বাড়ি যাওয়ার আগে স্কুলের বাথরুম ব্যবহার করতে গিয়ে আটকা পড়ে সে।

স্কুল ছুটি পর সহপাঠীরা লিয়নকে দেখেছে বইখাতা নিয়ে ক্লাস থেকে বের হতে। স্কুল ছুটি হয়েছে সেই কখন তবুও ছেলে বাড়ি ফিরেছে না। ফতেপুর গ্রামের বাসিন্দা লিয়নের বাবা অরবিন্দ দাস ভেবে অস্থির হয়ে ওঠেন। বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা হয়, সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত। লিয়ন তবু বাড়ি ফিরে নাই।

লিয়নের ‘নিখোঁজ’ হওয়ার খবর এবাড়ি-ওবাড়ি করে রটিয়ে পড়ে সারা গাঁয়ে। পাড়া, গ্রামের সব জায়গায় খোঁজেন ছেলেকে। কিন্তু লিয়ন কোথাও নেই।

দুপুর আড়াইটা থেকে রাত ১০টা- টানা সাড়ে সাত ঘণ্টা লিয়নকে কোথাও না পেয়ে হতাশ গ্রামবাসী যান স্কুলের প্রধান শিক্ষক গোলাম রব্বানির বাড়িতে। তার কাছ থেকে স্কুলের চাবি নিয়ে আসেন। স্কুলের বিভিন্ন কক্ষ খুলেও খোঁজ পায়নি লিয়নের। অবশেষে একটি বাথরুম খুলে তারা দেখতে পান লিয়ন খানিকটা চেতনাহীনভাবে পড়ে রয়েছে।

দ্রুত তাকে বের করে নিয়ে যাওয়া হয় চিকিৎসকের কাছে। মধ্য রাতের দিকে লিয়ন স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে। লিয়ন ফিরে আসে মায়ের কোলে। ‘ছুটির ঘণ্টা’র অঘটন থেকে বেঁচে যায় ফতেপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোলাম রব্বানি এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ‘এমনটি ঘটবে বুঝতেই পারিনি। বড় বিপদ থেকে বেঁচে গেছি। পিয়ন বাথরুমের দরজা লাগানোর সময় নিশ্চয়ই সতর্ক ছিল না। শনিবার স্কুল খুললে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে পরামর্শ করে ব্যবস্থা নেব।’

লিয়ন দাস জানায়, ‘স্কুল ছুটির ঘণ্টা পড়া পর আমি বইখাতা নিয়ে বাথরুমে ঢুকেছিলাম। সেখানে একটু সময়ও লেগেছিল। এর মধ্যে কখন যে বাথরুমের দরজা বন্ধ করে দিয়েছে তা বুঝতেই পারিনি। এরপর আর চেষ্টা করেও বের হতে পারিনি। ডাকাডাকি করেছি। কিন্তু কেউ তো আমার কথা শুনেনি, জবাবও পাইনি। পরে আর কিছু মনে নেই।

সর্বশেষ

হালিশহরে গ্যাস বিস্ফোরণের ঘটনায় পাঁচজনের মৃত্যু

মিরসরাইয়ে কৃষকের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার

পিলখানা হত্যাকাণ্ড: বিস্ফোরক আইনের মামলায় আসামি হচ্ছেন শেখ হাসিনা

হালিশহরে ঘরে জমে থাকা গ্যাসের বিস্ফোরণে নারী-শিশুসহ নয়জন দগ্ধ

প্রথমবার তেজগাঁওয়ে অফিস করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

কোতোয়ালীতে মিছিলের চেষ্টাকালে আওয়ামী লীগের আটজন গ্রেপ্তার

চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব নিয়ে বিভ্রান্তিকর বক্তব্যের প্রতিবাদ

Facebook
X
Skype
WhatsApp
OK
Digg
LinkedIn
Pinterest
Email
Print